কবিতা-বৃষ্টি প্রেমাবর্ত
গ্রীষ্মের সাদা ফুলের স্নিগ্ধতায় তুমি খোঁজ নি কখনও আমায়,
যদি খুঁজতে আমিও নিতাম চোখের জলের শান্তি,
শীতল নীড়ের ছায়ায়।
তুমি আকাশ হয়ে সাগরের
আমানত
ধারণ করেছ বক্ষে-
সয়ে রয়ে গেছো মেঘের মাদলে
অশ্রু ঝরেছে চোক্ষে।
বৃষ্টি তোমার তুমিই ভেবেছো
হয়নি বৃষ্টি তোমার!
বর্ষা ফুলের মাতাল গন্ধে
করেনি নিজেকে উজাড়।
দিনের শুরুতে ঝরেছে বকুল
চলার পথের পরে,
তুমি ভালোবেসে তাও কুড়িয়ে এনেছো
রেখেছ নিজের করে।
বৃষ্টির পরে বেলা শেষ রোদ
আকাশে রঙের খেলা-
মেঘাবশেষে তুমি বেসেছ ভালো
রঙিন গোধূলি বেলা।
শিউলির ঘ্রাণে বুঝেছি যখন
শরৎ এসেছে এবার
কেন তুমি মেঘে রেখেছ দুচোখ
জলধারা চাও আবার!
শরতের শেষে রিক্ত আবেশে
নীরবে শিশির ঝরে,
সেই শিশিরেও খুঁজেছ বৃষ্টি
দহনকে বুকে ধরে।
শীতের রঙিন ফুলের বাগানে
উত্তরায়ণ রোদ,
রঙ ছাপিয়ে হৃদয় তোমার
করছে কী ঋণ শোধ!
ফাগুন আসে, আগুন হাসে,
পলাশ পাপড়ি লাল-
কেই কোনো ঘ্রাণ, করে না মাতাল
ধরেনা প্রেমের হাল।
বসন্ত বাতাসে পলাশের রঙ
ভাবে বসে নিরালায়
রজনীগন্ধা হলনা হওয়া,
বৃষ্টির মতো শীতল রওয়া,
ক্ষণিকের আসা, ক্ষণকাল ভাসা,
আবর্তে রয়ে যায়।
আপন খেয়ালে বর্ষা আসে
চপল গতিতে ভালোও বাসে,
ঝরিয়ে পলাশ, করে উপহাস,
রঙে তার ধুলি মেশে।
