Logo
logo

গল্প / কাহিনী

গল্প-আজকের আরুনি


বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুর মহকুমার , পাত্রসায়রের একটি প্রত্যন্ত গ্রাম । গ্রামের নাম চর গোবিন্দপুর । এই গ্রামেরই বাসিন্দা রামকিঙ্কর বড়াইক , জাতে সদগোপ । পুরো পরিবারই বৈষ্ণব ধর্মে দীক্ষিত । রাম কিঙ্কর পেশায় ভাগ চাষী । একটাই পুত্র সন্তান , নাম অচ্যুত । নুন আনতে পান্তা ফুরায় , এমনই হতদরিদ্র পরিবার । অচ্যুত লেখাপড়া করে নি , কারণ এই অর্থনৈতিক অবস্থায় পড়াশোনা বিলাসিতা । অচ্যুত গ্রামে সকলের খুবই আদরের , কারণ ওর মিষ্টি স্বভাব এবং মায়াভরা মুখ ।
অত্যন্ত খরা প্রবন জেলা বাঁকুড়া । ভাগচাষী রামকিঙ্কর অক্লান্ত পরিশ্রম করে , ঘরে ফেরার ফুরসৎ পায় না । বেলার দিকে গামছায় বেঁধে ছেলের হাত দিয়ে মা পারুল বাবার জন্য পান্তাভাত , পেঁয়াজ এবং কাঁচালঙ্কা দিয়ে দুপুরের খাবার পাঠিয়ে দেয় । বাঁকুড়ার গ্রীষ্মের দুপুর , বারো বছরের অচ্যুতের মনে হচ্ছে , সূর্য আকাশে নয় , মাটিতে নেমে এসেছে । গ্রামের রুক্ষ মাটিতে খালি পায়ে হেঁটে চললো অচ্যুত । বাড়ি থেকে প্রায় আড়াই ক্রোশ পথ হেঁটে বাবার কাজের জায়গায় পৌঁছলো অচ্যুত । ছেলের ডাকে হুঁশ ফিরলো রামকিঙ্করের । একে তো তীব্র জলাভাব , তার উপর চাষের কাজ ঠিক মতো না হলে , মহাজনের ধার শোধ হবে না । সম্বৎসরের অন্নের সংস্থানও সম্ভব হবে না । রামকিঙ্কর ছেলেকে বললো , " দে বাছা , খাবারটা দে । বিকেলের মধ্যে আজকের কাজ শেষ করতে হবে ।" রামকিঙ্কর গোগ্রাসে ভাত খেতে খেতে ছেলেকে বলল , "বাবা অচ্যুত , তুই ওই ক্ষেতের আলের ধারে শিরিশ গাছের ছাওয়ায় বসে জিরিয়ে নে বাবা । ওই শিরিশ গাছটা তোর ঠাকুরদা আজ থেকে পঁচিশ বছর আগে বসিয়ে ছিল । আজ সেই গাছ কত বড় হয়েছে । এই গাছের ঠান্ডা ছাওয়ায় কত মানুষ বিশ্রাম নেয় । অসংখ্য পাখির সংসার আছে এই গাছে , জানিস ? বাবার কথা শুনতে শুনতে , অচ্যুত বিশাল শিরিশ গাছটাকে জড়িয়ে ধরে আদর করতে লাগলো । মনে হচ্ছে ঠাকুরদা অচ্যুতকে মাথায় হাত দিয়ে আশীর্বাদ করছে । রামকিঙ্করও জানে , শিরিশ গাছটা আচ্যুতের প্রাণ । অঞ্চলের অনেক খারাপ মানুষের এই গাছটার উপর লোভ রয়েছে । অনেকবার লোকজন নিয়ে লুকিয়ে শিরিশ গাছটা কাটবার চেষ্টাও করেছে । কিন্তু কিছু করতে পারে নি । কোনো না কোনোও ভাবে অচ্যুত বা রামকিঙ্করের নজরে পড়ে যাওয়ায় , বিশেষ করে অচ্যুত হাতে কাটারি নিয়ে ওদের অনেকবার তাড়িয়ে দিয়েছে ।
বর্ষা এসে গেলো । রামকিঙ্করের মতো সমস্ত চাষীরা এই সময়টার জন্য ঠাকুরের কাছে মানত করে , পূজো দেয় । নুন আনতে পান্তা ফুরালেও , আজ পারুলের খুবই ব্যাস্ততা । আজ "কুলো নামানো মাগন" উৎসব পালন করা হবে । পারুলের মতো চর গোবিন্দ পুর গ্রামের সমস্ত এয়ো স্ত্রীরা এলাকার অনাবৃষ্টির সময় ঘরের বাঁশের কুলো উঠোনে নামিয়ে রেখে বৃষ্টি বা মেঘের জন্য প্রার্থনা করে । এছাড়া গ্রামের মহিলারা বাড়ি বাড়ি ঘুরে ছড়া কেটে চাল ডাল বা অর্থ সংগ্রহ করে । একেই বলা হয় "মাগন" । এইগুলি দিয়েই বেলা শেষে রান্না করে মেঘের উদ্দেশ্যে ভোগ নিবেদন করে ।
আজ "কুলো নামানো মাগন" উৎসবের জন্য ক্ষেত থেকে রামকিঙ্কর তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরে এলো । অচ্যুত কিন্তু ঠাকুরদার বসানো ওই বিশাল শিরিশ গাছকে খুব আদর করে , ভালো বাসে আর শুধুই ঠাকুরদা কে স্মরণ করে কাঁদে । অচ্যুতের মনে হয় যেন সে ঠাকুরদার কোলে বসে রয়েছে । গরমে ঠাকুরদা ওকে পাখার বাতাস দিয়ে ঘুম পাড়ানোর চেষ্টা করছে । অচ্যুত ঘুমিয়ে পড়লো সেই বিশাল শিরিশ গাছের তলায় ।
ঘুমের মধ্যে অচ্যুত অনেক স্বপ্ন দেখলো । ঠাকুরদার হাত ধরে অচ্যুত গ্রামের ব্লক অফিস থেকে অনেক গাছের চারা নিয়ে এসে গ্রামের চারিদিকে পুঁতে দিচ্ছে । ঠাকুরদা বলছে , এরাও একদিন এই শিরিশ গাছের মতোই বিশাল হয়ে উঠবে । প্রকৃতিকে ঠান্ডা রাখবে , বিশুদ্ধ বাতাস বইবে । হাজার হাজার পাখিদের থাকবার ব্যাবস্থা করে দেবে এই গাছ গুলিই । এই প্রকৃতি প্রেম ঈশ্বর প্রদত্ত । কোনোকিছুর চাওয়া পাওয়ার স্বার্থ ছাড়া ।
হঠাৎই ঠান্ডা ঝোড়ো বাতাসে অচ্যুতের ঘুম ভেঙে গেলো । ওর মাথা এবং গায়ের উপর শিরিশের পাতা ঝড়ে পড়েছে । অচ্যুতের মনে হলো এগুলি শুধুই পাতা নয় । ঠাকুরদা যেন বলতে চাইছে আদরের নাতি কে , গ্রামে যেন আরো গাছ বসায় । গাছ বেশি থাকলে বৃষ্টিও হবে । ঠাকুরদা এবং নাতির পারস্পরিক প্রকৃতি প্রেম গাঢ় হয়ে উঠলো । মনে মনে অচ্যুত ঠিক করে নেয় , সময় পেলেই বাবার সাথে গ্রামের ব্লক অফিসে গিয়ে অনেক গাছের চারা নিয়ে আসবে । সমস্ত গ্রামটাকেই সে সবুজ করে তুলবে । গ্রামের ঠান্ডা পরিবেশন সকলকে স্বস্তি দেবে । হবে অনেক বৃষ্টি । বাবারও কষ্ট ঘুচবে । ক্ষেতে অনেক ফসল হবে । ঘরে থাকবে না অভাব । অচ্যুত ঠিক করলো যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বাবার সঙ্গে ব্লক অফিসে গিয়ে গাছের চারা নিয়ে আসবেই ।
দুপুর গড়িয়ে প্রায় বিকেল হতে চললো । ছেলের খোঁজে বাবা রামকিঙ্কর হন হন করে ক্ষেতের দিকে আসছিলো । পথেই দেখা হয়ে গেলো অচ্যুতের সঙ্গে । রামকিঙ্কর চিন্তান্বিত ভাবে ছেলেকে জিজ্ঞাসা করলো দেরী হওয়ার কারণ । অচ্যুত বললো , " বাবা , সুন্দর ঠান্ডা হওয়া দিচ্ছিলো , তাই ঠাকুরদার বসানো গাছের তলায় ঘুমিয়ে পড়েছিলাম । রামকিঙ্কর বললো , " ঠিক আছে চল , তোর মার তো পূজো দেওয়া হয়ে গেছে । রান্নাও হয়ে গেছে । তাড়াতাড়ি চল , স্নান করে খেয়ে নিবি ।
বাপ ছেলে মাঠের রাস্তা ধরে আসতে আসতে দেখলো আকাশে ভালো মেঘ জমেছে । সন্ধ্যের দিকে নিশ্চিত বৃষ্টি হবে , ভগবান শ্রী কৃষ্ণের কৃপায় । রামকিঙ্কর ছেলেকে বাড়িতে পৌঁছিয়ে দিয়েই পারুল কে বললো , "আমি রাধামাধবের মন্দিরে যাচ্ছি । আজ নাম সংকীর্তন হবে । ফিরতে ফিরতে রাত হয়ে যাবে ।" রামকিঙ্কর গলায় করতাল ঝুলিয়ে বেরিয়ে গেলো ।
ঠিকই তাই , মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হলো । গ্রামের গৃহবধূদের আজ "কুলো নামানো মাগন" যে এতো সফল হবে , কেউ চিন্তাতেই আনতে পারেনি । গ্রামের সমস্ত ঘরে শুরু হলো শঙ্খধ্বনি , উলুধ্বনি । গ্রামের চাষীরা ষোলোয়ানা আনন্দ নেওয়ার জন্য , যে যার ক্ষেতের দিকে দৌড় লাগালো । অচ্যুতের বাবা তো ঘরে নেই । রাধামাধবের মন্দিরে গেছে কীর্তন করতে । অগত্যা অচ্যুত একাই বাবার ক্ষেতের দিকে দৌড়োলো । ও জানে , বাবা সঙ্গে না থাকলেও ঠাকুরদা রয়েছে ক্ষেত পাহারায় , ওই বিশাল শিরিশ গাছের রূপ ধরে । অচ্যুতের মনে কোনো ভয়ের লেশ মাত্র দেখা গেলো না । কতদিন বাদের এইরকম বর্ষা হচ্ছে , সকলের মতো অচ্যুতও আনন্দে আত্মহারা ।
কিন্তু ওরা কারা ? বাবার ক্ষেতের পাশে ওই শিরিশ গাছটাকে নিয়ে ওরা কি করছে ? অঝোরে বৃষ্টি পড়ছে , সঙ্গে শন শন করে ঝোড়ো হাওয়া বইছে । এবার অচ্যুতের মনে আশঙ্কা হলো , ওই বাজে লোকগুলো বোধহয় গাছটার কোনো ক্ষতি করতে এসেছে । অপেক্ষা না করে অচ্যুত চিৎকার করে উঠলো , " দাদামশাই , তোমার কোনো ভয় নাই , আমি আসছি । হাতে উদ্যোত কাটারি নিয়ে , বারো বছরের ঐটুকু কিশোর চণ্ডাল রূপ ধারণ করে অন্ধকারে দাঁড়িয়ে থাকা লোকগুলোর দিকে ধেয়ে গেলো , হিতাহিত জ্ঞান শূন্য হয়ে । ওই দুষ্কৃতীরা শিরিশ গাছটা প্রায় কেটে ফেলেছে গোড়া থেকে । আসন্য বিপদের আশঙ্কা করে , গাছে থাকা অসংখ্য পাখির ঝাঁক ওই দুর্যোগের সন্ধ্যাতেও যে যেদিকে পারছে জীবন রক্ষার জন্য পালিয়ে যাচ্ছে , আর্তনাদ করতে করতে ।
প্রবল বর্ষণে শালি নদী ফুলে ফেঁপে উঠেছে । প্রতি বছর বর্ষাকালে সোনামুখী ও পাত্রসায়রের ব্লকে এই নদীর জলস্ফীতি বড় ধরণের বন্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায় । দুষ্কৃতীরা রামকিঙ্করের ফসলের ক্ষতি করবে বলে , ক্ষেতের আলের বাঁধ কেটে দিয়েছে । বন্যার জল ক্ষেতের মধ্যে ঢুকতে শুরু করেছে । ঐটুকু বালক অচ্যুত কি করে এতো বিপদ একা সামলাবে বুঝে উঠতে পারলো না । তথাপি নিজের স্বর্বস্য দিয়ে লোকগুলোর দিকে দা নিয়ে কোপাতে গেলো । অপরাধীরা মনের দিকে থেকে ভীতু হয় । আসন্য বিপদের আশঙ্কা করে দুষ্কৃতীরা অন্ধকারে গা ঢাকা দিল ।
অচ্যুত শিরিশ গাছের কাছে ছুটে গেলো পাগলের মতো কাঁদতে কাঁদতে । বলতে লাগলো "দাদামশাই , আমি তোমাকে বাঁচাতে পারলাম না ।" প্রায় কেটে ফেলা গাছটির ক্ষতস্থানে নিজের জামাটা খুলে চেপে ধরলো , যদি দাদামশাইয়ের যন্ত্রনা কমানো যায় । হঠাৎই অচ্যুত দেখলো দাদামশাইয়ের বসানো শিরিশ গাছটা সশব্দে দুষ্কৃতীদেরই কেটে দেওয়া বাঁধের উপর আছড়ে পড়লো তার বিশাল শরীরটা নিয়ে । নাতি অচ্যুতের অপরিসীম প্রকৃতি প্রেমের প্রতিদান , নিজের জীবন দিয়ে শিরিশ গাছটা পরিশোধ করলো , ক্ষেতে বন্যার জল ঢুকতে না দিয়ে । অচ্যুত শোকে বোবা হয়ে পড়ে থাকা বিশাল শিরিশ গাছটার উপর শুয়ে চিৎকার করে কাঁদতে লাগলো ।
চর গোবিন্দপুরের মানুষেরা ইতিমধ্যেই দলবেঁধে প্রবল বর্ষণের রাতে অচ্যুতকে খুঁজতে বেরিয়েছে । কারো কারো হাতে রয়েছে হ্যাজাকের আলো । সকলকে পথ দেখিয়ে ক্ষেতের দিকে রামকিঙ্কর এগিয়ে আসছে । সকলে অচ্যুতের নাম ধরে ডাকাডাকি করতে লাগলো । গ্রামের সবাই আতঙ্কে দিশাহারা , অবধারিত বন্যার আশঙ্কায় । সকলের এতো পরিশ্রমের ফসল সব নষ্ট হয়ে যাবে । মহাজনের ঋণ শোধ হবে না । প্রত্যেককের সংসারে অভাব মহামারীর আকার নেবে ।
রামকিঙ্কর দেখতে পেলো দূরে বাবার বসানো শিরিশ গাছটা ক্ষেতের বাঁধের উপর পড়ে রয়েছে । বিপরীত দিক থেকে শালি নদীর জল পাগলের মতো বিশাল শিরিশ গাছটার উপর প্রবল আক্রশে আছড়ে পড়ছে , কিন্তু গ্রামের ভিতর ঢুকতে পারছে না । কিন্তু অচ্যুত কথায় গেলো ? সকলে শিরিশ গাছটার কাছে গিয়ে দেখলো , অচ্যুত গাছটাকে মরনপন ভাবে জড়িয়ে ধরে আছে । রামকিঙ্কর অনেক ডাকাডাকি করার পরও ছেলে সাড়া দিল না । অচ্যুত জ্ঞান হারিয়েছে ।
অচ্যুতকে সাবধানে গ্রামে নিয়ে আশা হলো । গায়ে প্রবল জ্বর । জ্ঞান ফেরার পর থেকেই কেবল নিজের মনে বিড় বিড় করে চলেছে , "দাদামশাই ওকে অনেক গাছ গ্রামের চারিদিকে লাগাতে বলেছে ।" গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার বললেন , খুব মানসিক আঘাতে এইরকম হচ্ছে । সারতে কিছুটা সময় লাগবে ।
গ্রামের সবাই বলছে অচ্যুতের শিরিশ গাছটির জন্যই এবার গ্রামে বন্যা হলো না । মানুষ এবং প্রকৃতির ভালোবাসা এবং তার অসাধারণ প্রতিদানের কথা লোকেরা মুখে মুখে জেলার বিডিও র কানে গিয়ে পৌছালো । পরের দিনই বিডিও নিজে রামকিঙ্করের বাড়িতে এসে , অবশ্যম্ভাবি বন্যারোধ এবং বহু মানুষ আর গবাদী পশুর প্রাণ রক্ষা , সাথে বহুমূল্য ফসল রক্ষা করার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলো । একই সঙ্গে রামকিঙ্কর এবং অচ্যুতের নেতৃত্বে গ্রামের সমস্ত জায়গায় বৃক্ষরোপনের ব্যবস্থা করা হলো । বিডিও যাবার আগে বলে গেলেন অচ্যুত এবং ওর পরিবার কে চারদিন বাদে বিডিও অফিসে সম্মর্ধনা জানানো হবে , প্রকৃতির প্রতি বিরল ভালোবাসার জন্য ।
নির্ধারিত দিনে গ্রামের সকলের সাথে রামকিঙ্কর এবং অচ্যুত দুপুরবেলায় বিডিও অফিসে উপস্থিত হলো । বিরাট হলঘরে সকলে চেয়ারে বসলো । উপরের মঞ্চে রামকিঙ্কর এবং অচ্যুত বসলো । ওরাই তো আজকের বিশেষ অতিথি । অনুষ্ঠান নির্ধারিত সময়ে শুরু হওয়ার আগে বিডিও স্বয়ং অচ্যুত কে নিজের হাতে মাল্যদান করে অসাধারণ প্রকৃতি প্রেমের স্বীকৃতি দিলেন । এরপর বিডিও সকলের উদ্দেশ্যে বললেন -
"আরুনি (বা উদ্যালক আরুনি ) হিন্দু পৌরাণিক কাহিনী এবং মহাভারতের একজন বিখ্যাত বৈদিক ঋষি । তিনি ছিলেন ঋষি অযোধ - ধৌম্যর অত্যন্ত অনুগত ও আদর্শবাদী শিষ্য । গুরুর প্রতি তাঁর অতুলনীয় ভক্তি এবং নিঃশর্ত বাধ্যতার ঐতিহ্যর উদাহরণে স্মরণীয় হয়ে আছেন । বিডিও বললেন যে আমাদের এখানে উপস্থিত অচ্যুত হচ্ছে আজকের আরুনি । এই কিশোরের অগাধ শ্রদ্ধা এবং বিশ্বাস ওর ঠাকুরদার প্রতি আমাদের হতবাক করে দিয়েছে । ওই বিশ্বাসের প্রতিদান স্বরূপ ঠাকুরদার রোপন করা শিরিশ গাছটির জন্যই আমরা সবাই আজ নিরাপদে রয়েছি । রক্ষা পেয়েছে সকলের ফসল । তাই আমি সরকারের পক্ষ থেকে এই দরিদ্র পরিবারের ছেলেটির বড় হয়ে ওঠার সমস্ত দায় দায়িত্ব নেওয়ার অঙ্গীকার করলাম । আমাদের আজকের "আরুনি" আশাকরি ভবিষ্যতে সকলের মুখ উজ্জ্বল করবে ।
হলের ভিতরে সকলের অলক্ষে মা পারুলের একাকী ছেলের গর্বে চোখের জল বাঁধ ভাঙলো । কিন্তু এই বাঁধ ভাঙা চোখের জল কি অচ্যুত আটকাতে পারবে শিরিশ গাছের মতো ?

<<Prev1234Next>>

Contact US

Tel: 8697419047
Email: sreemotirdarbar@gmail.com