Logo
logo

গল্প / কাহিনী

সনাতনী

কাল মহালয়া । বিগত ১৬৪ বছরের মতই আজও  সন্ধ্যেবেলা সঠিক নির্ঘণ্ট মেনে ভট্টাচার্য বাড়ির দূর্গা প্রতিমা কুমোরটুলি থেকে আনা হয়েছে । সঙ্গে এসেছেন প্রধান মৃৎশিল্পী , যিনি আজ এ বাড়ির সম্মানীয় অতিথি । রাজকীয় আতিশয্যে রাত কাটিয়ে আগামী কাল ভোরে ঠিক ব্রাহ্ম মূহুর্তে চন্ডীপাঠ শুনতে শুনতে শুদ্ধ চিত্তে এবং শুদ্ধ বস্ত্রে তিনি দেবীর চোখ  আঁকবেন । তারপর এ বছরের মত দক্ষিণা নিয়ে তিনি রওনা হবেন । আবার পরবর্তী বছরের অপেক্ষা ।

ভট্টাচার্য বাড়ির খোলা দালানে , মাতৃ মূর্তি রাখা হয়েছে । সেই জায়গাটি যথেষ্ট খরচ সাপেক্ষ উপকরণে সাজানো হয়েছে । এ তল্লাটের প্রাক্তন জমিদার বাড়ির পুজো বলে কথা, তার চমক তো চোখে লাগার মত হবেই । জমিদারী হয়তো আজ আর নেই, কিন্তু সকলেই উচ্চ আয় সম্পন্ন হওয়ার জন্য ঠাঁটবাটের আজও কমতি নেই । বাড়ির বর্তমান বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্য সুবীর ভট্টাচার্য, আশি বছর বয়সী মানুষটার প্রবল গাম্ভীর্য ও সঠিক বিচার ক্ষমতা, বাড়ির প্রতিটি সদস্যকে আজও এক ছাদের নিচে আটকে রেখেছে । এখনও এলাকার বাসিন্দারা নিজেদের সমস্যা নিয়ে জমিদার বাড়ি ছুটে আসে, বাড়ির লোকও সকলের সুখে দুখে পাশে থাকে ।  এহেন বাড়ির পূজো বলে কথা, সকলে অধীর আগ্রহে সারা বছর অপেক্ষা করে ।

বিরাট বড়ো তিন তলা বাড়ি আলোর মালায় মুড়ে ফেলা হয়েছে । দূর দূর থেকে আত্মীয় স্বজন সব চলে এসেছেন ।সারা বাড়ি জমজমাট । কোথাও নতুন শাড়ির গল্প তো কোথাও প্রতিবেশীর নিন্দা, কেউ পূজোর গান ধরেছে তো নবীন প্রজন্ম কানে হেডফোন লাগিয়ে গান শুনতে ব্যস্ত ।
সুস্বাদু খাবারের গন্ধে গোটা বাড়ি ম ম করছে । আসন্ন উৎসবের সমস্ত আয়োজন প্রায় সম্পূর্ণ । সুবীরবাবু বসার ঘরে তার ছেলে ও নাতিদের নিয়ে দেবী পূজার দশকর্মার ফর্দ তৈরী করতে ব্যস্ত, এমন সময়ে এসে উপস্থিত হলেন এই বাড়ির কূল-পুরোহিত নিত্যভূষণ মৈত্র , যারা বংশানুক্রমে এই বাড়ির পূজোর সাথে যুক্ত । দীর্ঘ দেহী নিত্যবাবু ঘরে ঢুকেই বললেন, - " ক্ষমা করবেন সুবীরবাবু, এ বছর আপনার বাড়ির পুজো করা আমার পক্ষে সম্ভব না, শুধু আমি কেন কোন ব্রাহ্মণ সন্তানই এ বাড়ির পুজো করবেন না । "

হাত জোর করে সুবীরবাবুর বড়ো ছেলে বলে উঠল, - " আমাদের অপরাধ? প্রতিমা এসে গেছে, সব আয়োজন হয়ে গেছে, এখন আপনি কেন এ কথা বলছেন ঠাকুর মশাই?  "

- " এ বাড়ীতে পাপ ঢুকেছে, তাই এ বাড়ীতে মূর্তি পুজো হতে পারে কিন্তু তাতে প্রাণ প্রতিষ্ঠা অসম্ভব । "

- " এত বছরের পূজো এমন রাতারাতি বন্ধ হয়ে যাবে?  "

- " প্রয়োজনে হবে, কিন্তু অশুচি পরিবেশে আমরা দেবী মায়ের আরাধনা করতে পারব না । "

সুবীরবাবুর ছেলে আরও কিছু বলতে যাচ্ছিল , কিন্তু তিনি তাকে চুপ করতে বলে নিজে বলে উঠলেন, - " পুজো কোনো ভাবেই বন্ধ হবে না, আমাদের পরিবারের ঐতিহ্য এই পুজো , এ বন্ধ হওয়া মানে আমার বংশ ধ্বংস হওয়া। আপনি নিশ্চিত থাকতে পারেন, পুজো হবে আর তা হবে সম্পূর্ণ শুদ্ধাচারে , বিগত দীর্ঘ বছরের ন্যায় । আপনি পুজো প্রস্তুতি নিজে একবার পরখ করে নিন । আমি নিজে এই বাড়ির পাপ মুক্তি ঘটিয়ে মহামায়ার যোগ্য পরিবেশ তৈরি করব । "

- " বেশ, আপনাকে অস্বীকার করব না, আমি এখন আসছি, কাল সকালে এসে এই বাড়ির শুদ্ধিকরণ করব । তবে তার আগে যেন প্রতিমার মুখের আবরণ না খোলা হয় । চক্ষু আঁকার কাজ সেরে শিল্পী যেন আবার ঢাকা দিয়ে দেন । " বলে দাম্ভিক মানুষটি গটগট করে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন । আর সুবীরবাবু তিনতলার একটি ছোট্ট ঘরের বন্ধ দরজার সামনে দাঁড়িয়ে হাঁক দিলেন, - " কেউ আছে ঘরে?  "

দরজা খুলে বেরিয়ে এল একটি মেয়ে, পরণে দামী চুড়িদার, ওড়না দিয়ে মাথা ঢাকা, খুব সামান্য হলেও বহু মূল্য অলংকার রয়েছে শরীরে । কিন্তু সাদা সিঁথির দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেললেন সুবীরবাবু, এ কি না এই বিখ্যাত বাড়ির বৌ ! যার স্বামী বর্তমান থাকা সত্ত্বেও সিঁদুর পরার অধিকার নেই, একেই তো পাপ বলে গেলেন মৈত্র মশাই!

গলা গম্ভীর করে তিনি বললেন, - " তুমি থাকলে এ বাড়ির পুজো বন্ধ হয়ে যাবে, আর তুমি তো নিজেকে এ বাড়ির বৌ হিসেবে মনে করো । সেই দিক থেকে তোমারও কিছু দায়িত্ব আছে বাড়ির প্রতি। আর সেই দায় থেকেই তুমি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চলে যাও । আর্থিক সমস্যা তোমার হবে না, তবে বাড়ির চৌহদ্দিতে যেন তোমায় আর না দেখি , সালমা । "

কথাগুলো বলে সুবীরবাবু তৃপ্তির শ্বাস ফেলে চলে গেলেন । ওদিকে সালমা হঠাৎ শোনা এই কথাগুলোর কোন অর্থ করতে পারল না । ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে কান্নায় ভেঙে পড়ল জমিদার বাড়ির বৌ সালমা খাতুন, সুবীর ভট্টাচার্যের নাতি সমীরণের স্ত্রী । কোথায় যাবে ও এখন এই রাতের অন্ধকারে? আম্মি আব্বু তো সেই ভারত বাংলাদেশ সীমান্তের এক ছোট্ট প্রত্যন্ত গ্রামে থাকে । সেখানে দিব্যি ছিল সালমা । ভাগচাষী আব্বুর আদরের দুলালী হয়ে পড়াশুনা করে সুন্দর ছিল মেয়েটা । গ্রামের স্কুলে মাধ্যমিক পরীক্ষা পাশ করে কাছাকাছি গঞ্জে চাচার বাড়ি থেকে সেখানকার স্কুলে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা পাশ করে স্বপ্ন দেখতে লাগলো কলকাতার কলেজে পড়ার । কিন্তু সালমার পরিবারের অত আর্থিক সঙ্গতি নেই । তাই ওর আব্বু চটজলদি ওর নিকাহ ঠিক করে ফেললেন । ওদের গ্রামের ছেলে, ভালো ব্যবসা আছে । কিন্তু সালমা রাজি নয় । সুযোগ খুঁজছিল পালানোর, পাচ্ছিল না । ইচ্ছে ছিল পুলিশের কাছে যাবে । তাই বিয়ের আসরে যখন সবাই ব্যস্ত, সুযোগ বুঝে সালমা সোজা পুলিশের কাছে যায়, সেখানে তখন উপস্থিত কলকাতা পুলিশের উচ্চ পদস্থ এক আধিকারিক, সমীরণ ভট্টাচার্য । সালমার থেকে সব শুনে সমীরণ কিছু পুলিশ নিয়ে সোজা সালমার বাড়ি যায়, ওদিকে তখন হৈচৈ শুরু হয়েছে, বিয়ের সময় পেরিয়ে গেছে, সালমা নেই । সালমার আব্বু আম্মি কেঁদে সাড়া । বরপক্ষ সুযোগ বুঝে বিয়ে করতে রাজি হলেও অতিরিক্ত বরপণ চেয়ে বসে । কিন্তু সালমাকে পুলিশ সমেত দেখে তারা চম্পট দেয় । সালমার আব্বু সমীরণকে জিজ্ঞেস করে , - " এখন আমার বেটির কি হবে স্যার? লগ্নভ্রষ্টা মেয়ে নিয়ে কোথায় যাব ?ওকে পড়ানোর ক্ষমতা আমার নেই, ওকে মেরে ফেলা ছাড়া আর কোন পথ নেই ।"

সমীরণ আশ্বস্ত করে সালমার আব্বুকে, - " ওকে আমি পড়াব, ওর লেখাপড়ার যাবতীয় দায়িত্ব আমার । "

চোখের জল মুছে সালমার আম্মি বললেন, - " সে নয় বুঝলাম সাহেব, কিন্তু আমার বেটির শাদি হবে কি আর! কে নেবে আমার সালমাকে? "

লাল শাড়ি পরা সালমার নিষ্পাপ মুখের দিকে তাকিয়ে বড় মায়া হল সমীরণের, বলে ফেলল , - " আমি নেব । "

পরদিন সকালে সমীরণ, ওর কর্মক্ষেত্রের আধিপত্য খাটিয়ে খুব তাড়াতাড়ি আইন মেনে সালমাকে স্ত্রীর মর্যাদা দিল । সালমা চোখের জলে নিজের সব কিছু ছেড়ে এক নতুন জীবনে পা রাখল ।

এদিকে ভট্টাচার্য বাড়ি সালমাকে মেনে নিতে পারল না । তবে ফেলেও দিল না । সুবীরবাবু বললেন, - " আমরা নারীদের সম্মান করি, তাই ঘটনা চক্রে ও যখন এখানে এসে পড়েছে তখন থাক , তবে বাড়ির কিছুর সাথে ওর কোন রকম সখ্যতা থাকবে না । ও ওর ঘরে থাকবে । ওর যা দরকার তা প্রয়োজনের অতিরিক্ত পৌঁছে দেওয়া হবে । ঘরের বাইরে বের হবে না । আর বেরোতে হলে পিছনে চাকরবাকরদের বরাদ্দ পথ ওকে ব্যবহার করতে হবে । "

মেনে নিয়ে ছিল সালমা । নিজের ছোট ঘরে সমীরণকে নিয়ে সংসার পেতেছিল । তবে সমীরণ খুব ব্যস্ত মানুষ, খুব কম সময়ই ঘরে থাকে । একা একাই ছিল সালমা । বাড়ির কারো সাথে পরিচয় ছিল না । খাবার সময় কাজের লোক ওর খাবার দরজার সামনে রেখে চলে যেত । তবে শান্তি ছিল যে সমীরণ ওকে কলেজে ভর্তি করে দিয়েছিল । কলেজে পড়াশোনার পাশাপাশি অনেক বন্ধু জুটে গেল । তাই একপ্রকার ভালো ছিল সালমা । আব্বু আম্মিও মোটের ওপর খুশি ছিল । তবে আজকের ঘটনা সব কেমন ওলটপালট করে দিল ।

অনেক চিন্তা ভাবনা করে কোন তল পেল না সালমা । চোখের জল মুছে আব্বু আম্মিকে স্মরণ করে, সমীরণের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া চেয়ে ঘরের বাইরে এল । রাত গভীর হয়েছে । ঘরের বাইরে রাতের খাবার ঢাকা দেওয়া পড়ে রয়েছে । আজ তাকে খেতে দিয়ে কেউ ডাকে নি । সাড়া বাড়ি ঘুমে । শুধু টুনির মালাগুলো কুয়াশা মেখে অনিচ্ছা সত্ত্বেও জ্বলছে । কাল থেকে এ বাড়িতে মহোৎসব, তবে কেউ তার কথা ভাববে না, এটা সালমা খুব ভালো করে জানে । কিন্তু সমীরণ! আজ নাইট ডিউটি পড়েছে । ও কি সকালে এসে সালমার খোঁজ করবে না?
দীর্ঘশ্বাস ফেলে সালমা চুপচাপ নীচে নেমে এল । ঠাকুর দালানে জগৎজননী একা ,মুখ ঢাকা । সালমা মায়ের সামনে এসে দুই হাত তুলে এই বাড়ির সবার জন্য দোয়া চেয়ে বাড়ির বাইরে চলে গেল । ও শুনেছে বাড়ির সামনের রাস্তাটা এক বিরাট নদীতে গিয়ে শেষ হয় । ওটাই এখন ওর গন্তব্য ।
       ---------------------------------------------------------------
ঘড়ির কাঁটা রাত তিনটে প্রায় । শোভনার আজ রাতের ডিউটি ছিল । কিন্তু ভোরবেলা মহালয়া শুনবে বলে ও আজ তাড়াতাড়ি হাসপাতাল থেকে বেরিয়েছে । যদিও সেরকম রোগী ছিল না বলে ও ছাড়া পেয়েছে । শোভনা হাসপাতালের নার্স । অবিবাহিতা এবং পুরোহিত নিত্যভূষণ মৈত্রর একমাত্র নাতনি । এত রাতে ও বাস অটো ট্যাক্সি কিছুই পায় নি ।তাই হেঁটে হেঁটেই ফিরছিল । এতটা রাস্তা অসুবিধা হয় নি । কিন্তু গলির মোড় থেকে গোটা তিনেক মাতাল ওর পিছু নিয়েছে । মুখে অশালীন কথা, অভদ্র অঙ্গ ভঙ্গি । শোভনা জোড়ে হেঁটে দৌড়ে কিছু করেই ওদের এড়িয়ে যেতে পারছে না । তবে আর দুটো গলি পার হলেই বাড়ি, এই যা রক্ষে । কিন্তু শেষ রক্ষা হল কই ?

শয়তানগুলো শোভনাকে ধরে মাটিতে শুইয়ে একসাথে ওর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল । আসুরিক শক্তি ওদের শরীরে । শোভনা অসহায়ভাবে চুপ করে থাকল । কান্না ছাড়া এখন ওর আর কিই বা করার আছে!

হঠাৎই কিসের আঘাতে তিনটে শয়তান ছিটকে পড়ল । বাস্তব জ্ঞান শূন্য অসুরগুলো কিছু বোঝার আগেই প্রচন্ড আঘাত পেয়ে পালিয়ে গেল । শোভনা চোখের জল মুছে দেখল সামনে দাঁড়িয়ে এক সামান্য মেয়ে, কিন্তু তার চোখে সারা বিশ্বের রাগ । শোভনা ভাবল মা দূর্গা তো দশহাতে অসুর বধ করেছিলেন, কিন্তু এ তো দু হাতে তিনজনকে শায়েস্তা করল । ভক্তিতে সম্মানে শ্রদ্ধায় মাথা নিচু করল শোভনা, অপরদিকে এক প্রচন্ড লজ্জা বোধ হতে লাগল ওর, কারণ ওর দাদু ভট্টাচার্য বাড়ি গিয়ে কি বলেছেন, তা ও জানে । এখন কি করে শোভনা মুখ দেখাবে সালমাকে?

সালমা এগিয়ে এসে শোভনাকে বলল, - " তুমি তো শোভনা আপা ! ঐ বাড়িতে দেখেছি, উনি পরিচয় দিয়েছিলেন । কিন্তু তুমি এত রাতে এখানে কেন আপা ? "

- " মহালয়া শুনবো বলে তাড়াতাড়ি ডিউটি সেরে বাড়ি ফিরেছিলাম, আর এই বিপদ । কিন্তু বোন তুমি এখন রাস্তায় কেন ? "

সালমা চুপ করে রইল, ওর হাত ধরে শোভনা বলল , - " আজকের ঘটনা আমি সব জানি । বড় ভট্টাচার্যবাবু  তোমাকে বের করে দিয়েছেন , তাই তো ? আর তাই তুমি ঐ নদীর দিকে যাচ্ছিলে , কিন্তু বোন এবার যে তোমাকে আমার সাথে যেতে হবে । "

সকাল হতে এখনও বাকি আছে । আশ্বিনের এই সময়ে চারপাশ অন্ধকার, কিন্তু ভট্টাচার্য বাড়ির ঠাকুর ঘরে শাঁখ বাজছে, সারা বাড়ী জুড়ে চন্ডীপাঠের শব্দ ভাসছে । ঠাকুর দালানে চলছে দেবী প্রতিমার চোখ আঁকা । সামনে দাঁড়িয়ে ভট্টাচার্য মশাই, আর তার সাথে স্বয়ং সালমা । মৈত্র মশাই আছেন শোভনার সাথে । সালমা বিভোর হয়ে দেখছে দেবীকে । মৈত্র মশাই সালমার মাথায় হাত রেখে বললেন, - " আশীর্বাদ করি, তুমি এই বাড়ির উপযুক্ত হয়ে ওঠো । তুমিই তো মহামায়া , জগৎজননী । শত্রু দমন করে অসহায়কে রক্ষা করেছো । তোমার মধ্যে দিয়ে মা আমাদের বুঝিয়ে দিলেন যে আমরা শুধু অহংকারে মত্ত, শুভ বুদ্ধির অভাব রয়েছে । যাও মা , আজ দেবীর বোধনের আগে তোমার বরণ হবে । "

শোভনা বলল, -" সত্যি, আজ সালমা না থাকলে যে কি হত , ভাবলেই ভয় করছে । "

সালমা বলল, - " থাক না আপা , এসব কথা । এখন আনন্দ করার সময় এসেছে, তাই করি ।" বলে মৈত্র মশাইকে বলল, - " আমাদের গ্রামের এক ভাই ক্লাবে ছেলেদের ক্যারাটে শেখাতো , সেখানে আমরা মেয়েরা যেতে পারতাম না, কিন্তু আমার খুব ভালো লাগতো , আড়ালে লুকিয়ে দেখতাম ঐ প্যাঁচপয়জার, আর সেটা যে এভাবে কাজে আসবে, ভাবিনি । "

মৈত্র মশাই বললেন, - " তুমি জগদ্ধাত্রী, তোমাকে তো সব জানতেই হবে মা । "

এবার সুবীরবাবু বললেন, - " মায়ের চোখ আঁকা সম্পূর্ণ । মা আমাদের চোখ খুলে দিয়েছেন, যাও সলমা , স্নান সেরে নতুন বস্ত্রে প্রস্তুত হয়ে এসো । নিরাভরণ মাকে আজ তুমি সালংকারা করে তুলবে । আর আজ থেকে তুমি আর সমীরণ ঐ ছোট ঘরে না, আমার পাশের ঘরে থাকবে । "

সালমা বলল , - " কিন্তু আমার ভোরের নমাজ পড়া হয়নি!  "
- " সেটাও সেরে তবে এসো ।"

মৈত্র মশাই বললেন, - " আজ এ বাড়ির ইতিহাসে আর একটা অধ্যায় রচিত হল , বড়ো গর্বের সেটা । একে যত্নে লালন করবেন ভট্টাচার্যবাবু ।
স্মিত হেসে সুবীরবাবু বললেন, - " সে আর বলতে । "

সালমার চোখ তখন সদর দরজার দিকে, সমীরণের অপেক্ষায় ।

ঠাকুর দালান জুড়ে মহামায়া বিরাজ করছেন । মুখে অভয় দানের হাসি, বড় মোহময়ী। অদূরে বেজে উঠল সেই অমোঘ বাণী,
" আশ্বিনের শারদ প্রাতে বেজে উঠেছে আলোক মঞ্জীর. "

Contact US

Tel: 9903329047 / 8697419047
Email: sreemotirdarbar@gmail.com